30 C
Dhaka
Monday, August 8, 2022

আপন ভুবনে ফেরার আনন্দ

করোনার কারণে ঘরবন্দি জীবন পেরিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফিরেছে তাদের প্রিয় ক্লাসরুমে। তাই রোববার তাদের মাঝে ছিল ঈদের আনন্দ। সেই আনন্দের ঢেউ লেগেছিল সারাদেশের সব বিদ্যায়তনে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়, টানা ১৭ মাস পর ফের খুলেছে সব মহাবিদ্যালয়, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। শিক্ষকরা সাদরে বরণ করেছেন প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক স্থানে ফুল ও চকলেট দিয়ে বিদ্যালয় ফটকে ছাত্রছাত্রীদের বরণ করা হয়। তাদের সবার মুখে ছিল মাস্ক, চোখে খুশির ঝিলিক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, হাত ধুয়ে, স্যানিটাইজ করে সুশৃঙ্খলভাবেই নিজ বিদ্যাপীঠে প্রবেশ করে তারা। ক্লাস শেষে সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলার সঙ্গে আবার বের হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদ্যালয়ে যাওয়ার উত্তেজনায় শনিবার রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেনি অনেক শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে সব শিক্ষাঙ্গনের আঙিনায়। অবশ্য সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে ক্লাস শুরু না হওয়ায় গতকাল প্রথম দিনে বিদ্যালয়ে যাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি সবাই। এদিকে স্কুল-কলেজ খোলায় রাজধানীর রাস্তায় সকাল থেকেই গাড়ির চাপ ছিল বেশি। পুরান ঢাকা, শান্তিনগর, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

রাজধানীর বাইরে জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপ ও হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরেও স্কুলে-স্কুলে আনন্দঘন পরিবেশের চিত্র পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বন্যার কারণে দেশের ১৪টি জেলার অন্তত সহস্রাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতকাল ক্লাস শুরু করা যায়নি।

বরিশালের বাবুগঞ্জের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নব আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে থাকায় সড়কে মাদুর বিছিয়ে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা।

আর টাঙ্গাইলের নাগরপুরের আলোকাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় পাশের একটি বাড়ির উঠানে ক্লাস নেওয়া হয়। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর বড় অংশই গতকাল খোলেনি। তবে স্কুল ও কলেজের মতোই গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানেও কড়াকড়িভাবেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে দেখা গেছে। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কভিড-১৯ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, তা জানাতে বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গতকাল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছেন।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে ছাত্রছাত্রীদের উল্লাসের চিত্র। সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেছে।

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ছিল নানা আয়োজন। প্রতিষ্ঠানের বাইরে গতিরোধ করা হয় যান চলাচলে। ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলেছে শুধু শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠানের গেটে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে মাপা হয় শরীরের তাপমাত্রা। জীবাণুমুক্ত রাখতে হাতে দেওয়া হচ্ছিল স্যানিটাইজার। শিক্ষকরাও হাসিমুখে বরণ করে নিচ্ছিলেন শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্কুলে ফিরেই শিক্ষকদের হাত থেকে শিক্ষার্থীরা পেয়েছে লাল গোলাপ ও চকলেট। নিজেদের মধ্যে কুশলাদি বিনিময় করে তারা। সকাল ৮টায় বেজে ওঠে ঘণ্টা- ঢং ঢং ঢং। যে শব্দের জন্য শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করে ছিল ৫৪৪ দিন। বিশেষ এই দিনটি শুরু করা হয় জাতীয় সংগীত গেয়ে। বিধিনিষেধের কারণে হয়নি অ্যাসেম্বলি। এরপর সবার মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বসানো হয়। এক বেঞ্চে ছিল একজন। নিশ্চিত করা হয়েছে মাস্ক।

২০ জন শিক্ষার্থী জানায় তাদের উচ্ছ্বাসের কথা। সবার মুখেই দীর্ঘদিন পর ফেরার আনন্দ। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিন জাহির বলে, আমাদের যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি বা আমরা এখুনি পরীক্ষা দিতে পারব। তাই আমাদের আর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ করছি। তার বন্ধু সাজিদ বলে, আমরা হয়ে গেছি গোয়াল ছাড়া গরুর মতো। না আমরা কলেজের না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদ্রিতা রায়। স্কুলে আসার পর থেকেই ছুটে বেড়িয়েছে এপাশ থেকে ওপাশ। শিক্ষকরাও তার ছোটাছুটি উপভোগ করেছেন।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বৃত্তে লাফিয়ে বেরিয়েছে সে। আদ্রিতা সবার সঙ্গে প্রথম দেখায় করেছে ‘কনুই শেক’। আদ্রিতা বলে, ঘরে থাকতে থাকতে মাথা ধরে যেত শুরুতে। এরপর ছোট ভাই হলো। ওকে নিয়েই একটা বছর কাটিয়ে দিলাম। এরপর আজ স্কুলে এসে মনে হচ্ছে আমি মুক্ত পাখি। খাঁচায় বন্দি পাখি ছাড়া পেলে যেমনটা হয় ঠিক তেমন।ফের বাজে ঘণ্টা। প্রাথমিকের ক্লাস শেষ। সারিবদ্ধভাবে বের হয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বেরিয়ে যায় ছোট্ট শিক্ষার্থীরা। এ সময়টায় বাইরে অপেক্ষা করেছেন অভিভাবকরা। যদিও বিদ্যালয়ের ভেতরে সুরক্ষার নানা আয়োজন থাকলেও বাইরে অভিভাবকদের এই জটলায় সামাজিক দূরত্ব নেই বললেই চলে। গতকাল ছিল অভিভাবকদেরও আনন্দের দিন।

কারণ এক অভিভাবকের সঙ্গে আরেক অভিভাবকের আছে বন্ধুত্ব, আছে সখ্যও। দীর্ঘদিন পর একজন আরেকজনের দেখা পাওয়ার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জহুরা বেগম বলেন, আমরা মাউশির ১৯ দফা নির্দেশনা পালন করছি। আবারও যাতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে না যায় কিংবা কোনো শিক্ষার্থী বিপদের মুখে না পড়ে, সেদিকে আমরা সর্বাত্মক খেয়াল রাখব।রাজধানীর গভর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল ব্যাগ কাঁধে প্রতিষ্ঠানের সামনে ভিড় করছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। বন্ধুরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে।

চোখেমুখে ছিল তাদের বাঁধভাঙা আনন্দ। স্কুলের প্রবেশমুখে শিক্ষার্থীদের থার্মাল দিয়ে মাপা হচ্ছে তাপমাত্রা। একটু ভেতরে যেতে না যেতে শিক্ষার্থীদের ফুল, বাদ্যযন্ত্র ও গানের মাধ্যমে স্বাগত জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্লাসরুমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে পাঠদান। এক বেঞ্চে দু’জন করে শিক্ষার্থী বসিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, সন্তানকে আবার আগের পরিবেশে আনতে একটু সময় লাগবে। বাসায় বসে বাচ্চারা খুব একটা পড়াশোনা করেনি। অলস হয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে জাগাতে বিশ মিনিট সময় লেগেছে। আগে যেখানে পাঁচ মিনিট লাগত। যতই কষ্ট হোক আবার স্কুলমুখী হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কিছুদিন পরই তো পরীক্ষা। যতদিন সময় আছে নিয়মিত ক্লাস করাতে হবে।মনোয়ারা বেগম বলেন, তার মেয়ে অনন্যা আক্তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল খোলায় অনেক খুশি। ওদের জীবন থেকে অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে। ভুল করে আগের স্কুলের সময় অনুযায়ী ৭টায় চলে আসছি। এসে শুনি ৯টা ২৫-এ ক্লাস হবে। আগে তো আমাদের জানিয়ে দেয়নি। গভর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সোহেল আহমেদ বলেন, দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আজ (গতকাল) আমাদের স্কুলে দশম ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। একটি শিফটে ৪০ মিনিট করে ক্লাস হবে। সব মিলিয়ে আমাদের ১১শ শিক্ষার্থী।

উচ্ছ্বাস ছিল রাজধানীর আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজেও। তবে এ স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা ছিল কম। স্কুল শাখায় প্রতি বেঞ্চে একজন করে বসা হলেও কলেজ শাখায় বেঞ্চে স্থান দেওয়াটাই যেন দায়। গতকাল এই স্কুল পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।দেশে করোনার রোগী প্রথম শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর ১০ দিন পর সংক্রমণ রোধে বন্ধ করে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২৩ দফা ছুটি বাড়িয়ে ৫৪৪ দিন পেরিয়ে গতকাল রোববার খোলে স্কুল-কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা এখনও অপেক্ষায় আছেন প্রতিষ্ঠান খোলার।

রঙিন সাজে সেজেছিল মোহাম্মদপুর এলাকার স্কুল-কলেজ: মোহাম্মদপুরের রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল রঙিন কাগজ আর বেলুনে সাজানো হয়েছে।

লাইন ধরে শিক্ষার্থীরা তাপমাত্রা মেপে, হাত স্যানিটাইজ করে রঙিন বেলুন নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করছে। স্কুলের বাইরে অভিভাবকদের জটলা দেখা যায়নি।মোহাম্মদপুরের ওয়াইডব্লিউসিএ গার্লস হাই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনাগোনা নেই। দশম শ্রেণি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে।

তাদের দুটি করে চারটি রুমে বসানো হয়েছে। ভেতরে প্রবেশের সময় তাপমাত্রা পরিমাপ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করা হয়। হাত ধোয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে সেজেছে পুরো বিদ্যাপীঠ। শিক্ষকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ে আসা ও শ্রেণিকক্ষে থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেসমিন দীনা সমকালকে বলেন, প্রথম দিনেই তাদের শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রতিদিন পূর্ণ ক্লাস নিলেও সমস্যা হবে না। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস নিতে পারব।

সেন্ট যোসেফ হাই স্কুল ও কলেজে প্রথম দিনে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বিশাল ক্যাম্পাসের চারটি কক্ষে ক্লাস চলছিল। ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তাপমাত্রা মাপা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে প্রবেশ করানো হয়। এ স্কুলের অধ্যক্ষ ড. ব্রাদার লিও পেরেরা সমকালকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের রেগুলার পরিস্কার কার্যক্রম চলমান ছিল। এ কারণে আমাদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রস্তুতির দরকার হয়নি। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমও চলমান ছিল। শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের নিয়মিত কাজ চালিয়ে গেছেন। শিক্ষার্থীরাও তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শুধু আমাদের পার্থক্য ছিল স্কুল ও বাসা। পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় আমাদের নতুন করে ঝামেলা হয়নি।মিরপুর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও উচ্ছ্বাস-উল্লাস: মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের (বালিকা) প্রধান ক্যাম্পাসের পরিবেশ ছিল আনন্দঘন ও উৎসবের। ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছয়টি ক্যাম্পাস।সরেজমিন এই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম দিন পঞ্চম, ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেছে। প্রভাতি শাখায় সকাল ৮টা থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এবং দিবা শাখায় সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস হয়।

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মনিপুরের সব ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণই ছিল মুখর। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মুখে ছিল মাস্ক। প্রভাতি শাখা ছুটি হলে সহপাঠীদের নিয়ে একসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ দোকানের আচার, ঝালমুড়ি, আইসক্রিম খেতেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। অভিভাবকদেরও স্কুলের সামনের রাস্তার পাশে লাইন ধরে বসে থাকতে দেখা যায়।অনেক অভিভাবক জানালেন, দেড় বছর পর বাচ্চাদের আবার ক্লাসের ফাঁকে স্কুলের মাঠে ছোটাছুটি করার দুরন্ত দিনগুলো শুরু হলো।

স্কুলগামী সন্তানের পাশাপাশি বদলে যাচ্ছে মা-বাবার দৈনিক রুটিন। শিক্ষকরা পাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের সান্নিধ্য। সহপাঠীদের সঙ্গ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।মিরপুরের অন্য স্কুল-কলেজ ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে আনন্দঘন পরিবেশ ছিল মিরপুর আইডিয়াল গার্লস কলেজ, এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ ও বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ প্রাঙ্গণেও।

উত্তরার প্রতিষ্ঠানগুলোর গেটে ছিল ভিড়: রাজধানীর উত্তরা এলাকার স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। তাদের প্রায় সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অধিকাংশ অভিভাবকই মাস্ক পরেছিলেন। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের গেটের বাইরে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছে ঢিলেঢালাভাবে। উত্তরার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির বাইরের সড়কেও খুব বেশি ভিড় হয়নি।

এলাকার অন্য আরেক বড় স্কুল উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা গেলেও অভিভাবকরা সামাজিক দূরত্ব মানতে উদাসীন ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ছাউনির আয়তনের তুলনায় অভিভাবকদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেই সুযোগও কম ছিল। অবশ্য এই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর চেষ্টা করে।

Subscribe

মতামত লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

সর্বশেষ সংবাদ