23 C
Dhaka
Wednesday, December 7, 2022
প্রচ্ছদমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষামেডিকেলমেডিকেল কলেজ খুলতে পারে শিগগির, ক্লাস চালুর পক্ষে মত

মেডিকেল কলেজ খুলতে পারে শিগগির, ক্লাস চালুর পক্ষে মত

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ২১ আগস্ট বা কাছাকাছি তারিখ থেকে এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষের ক্লাস চালুর পক্ষে মত দিয়েছে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের এক চিঠির জবাবে পরামর্শক কমিটি এই মতামত দিয়েছে।

কোভিড-১৯–সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪৪তম অনলাইন সভায় এ সুপারিশ করা হয় বলে গতকাল শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।

এখন সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর আজ শনিবার বলেন, এখন সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার সইয়ে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ ২১ আগস্ট বা কাছাকাছি যেকোনো তারিখ থেকে এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষ বা শেষ বর্ষের ক্লাস চালু করার বিষয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত চেয়ে পত্র দিয়েছিল। এ বিষয়ে কমিটির মত হলো, ইতিমধ্যে এসব ছাত্রছাত্রীর দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে এই দুই বর্ষের ক্লাস শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি।

এ ক্ষেত্রে কমিটি কিছু শর্ত দিয়েছে। সেগুলো হলো, ক্লাস শুরুর আগে সব ছাত্রছাত্রীর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ওপর প্রশিক্ষণ করাতে হবে। শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের সঠিকভাবে সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের সংক্রমণের ওপর নজরদারি রাখতে হবে। এ ছাড়া সংক্রমিত ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসা, আইসোলেশন এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা ছাত্রছাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতে হবে!

বিধিনিষেধ শিথিলে উদ্বেগসভায় বলা হয়, ২৩ জুলাই থেকে ১০ আগস্টের ‘লকডাউন’ (বিধিনিষেধ) কঠোরভাবে পালিত না হলেও জনসমাবেশ হওয়ার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান বন্ধ থাকায় সংক্রমণ হারে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। তবে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কোনোটাই স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আসেনি। এই অবস্থায় দ্রুত বিধিনিষেধ শিথিল করা বা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি।

জীবিকা ও দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার সরকারের দায়িত্ব উপলব্ধি করে এবং সরকারের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে কমিটি মনে করে বিধিনিষেধ শিথিলতার ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা তাড়াহুড়া করছে। এর ফলে সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাতে অর্থনীতি আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। ‘লকডাউন’ আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ চলমান রাখতে পারলে এর পুরোপুরি সুফল পাওয়া যেত। এ অবস্থায় কমিটি সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে।

কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ন্যূনতম সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান, পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ইত্যাদি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা, রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা না রেখে কেবল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া, সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচল, যে ক্ষেত্রে সম্ভব বাড়িতে বসে কাজ করা এবং অনলাইনে সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখে অফিস খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

এ ছাড়া শতভাগ সঠিকভাবে তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্ক পরার নিশ্চয়তা ও অন্যথায় পুনরায় বন্ধ করার বিধান রেখে অফিস, আদালত, ব্যাংক, দোকানপাট, বাজার খোলার পক্ষে কমিটি।

কমিটি সদ্য সমাপ্ত টিকা ‘ক্যাম্পেইনের’ মাধ্যমে এক সপ্তাহে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে বিভি

মহল থেকে টিকা ‘ক্যাম্পেইন’ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত দেওয়ায় জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি মনে করে টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়ে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে এ রকম পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।

Subscribe

মতামত লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

সর্বশেষ সংবাদ