23 C
Dhaka
Wednesday, December 7, 2022

শিক্ষকদের দলাদলিতে অস্থিরতা

বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা না দিয়েই স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১২তম হন এক শিক্ষার্থী। এই তথ্য গণমাধ্যমে বলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কিন্তু ভর্তি প্রক্রিয়ার অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ওই ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটের সদস্যসচিব ছিলেন বর্তমান শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীমুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, শামীমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার আবু তাহের সমর্থিত শিক্ষকদের পক্ষের নেতা হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর মাহবুবুল হক ভূঁইয়া তাঁদের বিপক্ষ দলের সদস্য হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘ছোট ছোট’ কারণে নির্দিষ্ট অংশের শিক্ষকেরা ‘হয়রানির’ শিকার হচ্ছেন। শিক্ষক এবং প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকদের বিবদমান তিনটি উপদলের গ্রুপিংয়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভেতরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী এ বিষয়ে গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনাগুলো ছোট ঘটনা। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ১৯টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। মোট শিক্ষার্থী ৭ হাজার ৭৪ জন। শিক্ষক ২৫২ জন।

উচ্চশিক্ষাকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষকদের দলাদলিতে অস্থিরতাআওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের তিনটি উপদল। মোট ২৫২ শিক্ষকের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন বাদে সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থক। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা না দিয়েই স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১২তম হন এক শিক্ষার্থী।

এই তথ্য গণমাধ্যমে বলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কিন্তু ভর্তি প্রক্রিয়ার অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ওই ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটের সদস্যসচিব ছিলেন বর্তমান শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীমুল ইসলাম।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, শামীমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার আবু তাহের সমর্থিত শিক্ষকদের পক্ষের নেতা হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আর মাহবুবুল হক ভূঁইয়া তাঁদের বিপক্ষ দলের সদস্য হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘ছোট ছোট’ কারণে নির্দিষ্ট অংশের শিক্ষকেরা ‘হয়রানির’ শিকার হচ্ছেন।

শিক্ষক এবং প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকদের বিবদমান তিনটি উপদলের গ্রুপিংয়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভেতরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।এই ঘটনাগুলো ছোট ঘটনা।

আশা করছি, দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী, উপাচার্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী এ বিষয়ে গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনাগুলো ছোট ঘটনা। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ১৯টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। মোট শিক্ষার্থী ৭ হাজার ৭৪ জন। শিক্ষক ২৫২ জন।একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, শুরুর দিকে নিয়োগ পাওয়া হাতে গোনা কিছুসংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থক। বাকি শিক্ষকেরা প্রায় সবাই এখন আওয়ামী লীগ সমর্থক। তাঁরাই এখন তিনটি ভাগে বিভক্ত।

এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান রেজিস্ট্রার মো. আবু তাহের। আরেকটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান প্রক্টর কাজী কামালউদ্দিন ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন দুলাল চন্দ্র নন্দী। তৃতীয় পক্ষটির নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মেহেদী হাসান (বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে), নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল হক ও রবিউল আউয়াল চৌধুরী এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাজী ওমর সিদ্দীকী।

আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকেরা ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন করেন। কিন্তু সাবেক উপাচার্য মো. আলী আশরাফের সময়ে ২০১৭ সালে শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তি শুরু হয়। ভেঙে যায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

তখন কাজী কামালউদ্দিন ও দুলাল চন্দ্র নন্দীর অংশটি তৎকালীন উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেন। আর তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের অংশটি উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।

২০১৮ সালে নতুন উপাচার্য হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী। তখন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আবু তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পান। একপর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আবু তাহের এবং আইনুল হক-মেহেদী অংশের মধ্যে মিল ভেঙে যায়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নতুন মেরুকরণে আবু তাহেরের অংশ এবং একসময়ের বিরোধী পক্ষ হিসেবে পরিচিত কাজী কামালউদ্দিন ও দুলাল চন্দ্র নন্দীর অংশটি যৌথভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে আবু তাহেরের পক্ষ থেকে সভাপতি এবং কামালউদ্দিন-দুলাল চন্দ্র নন্দীর পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

Subscribe

মতামত লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

সর্বশেষ সংবাদ